ব্যবসায়ী আইডিয়া: কৃষি ও কৃষি সমপর্কিত পন্য

বিজ্ঞাপন

LightBlog

New

Post Top Ad

Showing posts with label কৃষি ও কৃষি সমপর্কিত পন্য. Show all posts
Showing posts with label কৃষি ও কৃষি সমপর্কিত পন্য. Show all posts

Sunday, December 27, 2015

অল্প টকায় টমেটো কেচাপ তৈরির ব্যবসা করতে পারেন

11:59 AM 0
টমেটো কেচাপ
ফাস্ট ফুড বা জল খাবারের সাথে টমেটো কেচাপ খাওয়া হয়। টমেটো, চিনি ও অন্যান্য উপকরণের মিশ্রণে তৈরি টমেটো কেচাপ খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকাল টমেটো কেচাপের ব্যবসা বেশ লাভজনক একটি ব্যবসা। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি টমেটো কেচাপ তৈরি করে যে কোনো ব্যক্তি নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
ফাস্ট ফুড বা জল খাবারের সাথে টমেটো কেচাপ খাওয়া হয়। টমেটো, চিনি ও অন্যান্য উপকরণের মিশ্রণে তৈরি টমেটো কেচাপ খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকাল টমেটো কেচাপের ব্যবসা বেশ লাভজন একটি ব্যবসা। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মেয়েরা টমেটো কেচাপ তৈরি করে বাড়তি আয় করতে পারেন।
বাজার সম্ভাবনা
হালকা নাস্তা জাতীয় খাবারের সাথে টমেটো কেচাপ খাওয়া হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে টমেটো কেচাপের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তুলনমূলকভাবে গ্রামের চেয়ে শহরে কেচাপের চাহিদা বেশি। তবে গ্রামাঞ্চলেও ধীরে ধীরে কেচাপের চাহিদা বাড়ছে। টমেটো কেচাপের ব্যবসার মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
কেচাপ তৈরি করে বিভিন্ন উপায়ে বিক্রি করা সম্ভব। যেমন-
  • খাবারের দোকানে সরবরাহ করা যেতে পারে।
  • নিজেই কোন দোকান দিয়ে সেখানে বিক্রি করা যেতে পারে ।
  • অনেক সময় ক্রেতা বাড়ীতে এসেই কিনে নিয়ে যেতে পারে।
  • নিজের তৈরি খাবারের প্রচার চালানোর জন্য প্রথমে প্রতিবেশীদেরকে জানানো যেতে পারে, স্থানীয় দোকানীর সাথে যোগাযোগ করা যায়। আবার খাবারের বর্ণনা করে লিফলেট তৈরি করেও বিলি করা যেতে পারে।
মূলধন
আনুমানিক ১৫০০-১৬০০ টাকা মূলধন নিয়ে টমেটো কেচাপ তৈরি ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বড় আকারে এ ব্যবসা শুরু করতে যদি নিজের কাছে প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তবে ঋণদানকারী ব্যাংক (সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক), বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, প্রশিকা) থেকে শর্ত সাপেক্ষে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে।
প্রশিক্ষণ
বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রান্না প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। সেখান থেকে ১ মাস বা ৩ মাস মেয়াদি কোর্স করা যেতে পারে। আবার বাজারে রান্না বিষয়ক যে সব বই পাওয়া যায়, সেগুলো দেখে বা অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে শিখে নিয়েও টমেটো কেচাপের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে।
উপয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান
স্থায়ী উপকরণ 
উপকরণের নাম
পরিমাণ
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তিস্থান
কড়াই
১টি
৩৫০-৩৬০
তৈজসপত্রের দোকান
গামলা
২টি
২০০-২১০
তৈজসপত্রের দোকান
বাঁশের চালুনী
২টি
৬০-৬৫
বাঁশের পণ্য বিক্রির দোকান
মশারী নেট
১ গজ
৩০-৩৫
লেপ তোষকের দোকান
চামচ (বড়)
২টি
৬০-৭০
তৈজসপত্রের দোকান
 বোতল
২০টি
২০০-২১০
তৈজসপত্রের দোকান
মোট=৯০০-৯৫০ টাকা
কাঁচামাল 
উপকরণ
পরিমাণ
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তিস্থান
টমেটো রস
১০কেজি
৩৮০-৪০০
সবজির দোকান
পিঁয়াজ (কাটা)
১০০ গ্রাম
৭-৮
সবজির দোকান
চিনি       
১ কেজি
৫২-৫৫
মুদির দোকান
রসুন (কাটা)
৫ গ্রাম
৩-৪
সবজির দোকান
লবঙ্গ
৫ গ্রাম
৪-৫
মুদির দোকান
এলাচ ও গোলমরিচ (গুড়া)
১০ গ্রাম
১০-১২
মুদির দোকান
দারুচিনি (গুড়া)
১০ গ্রাম
১০-১২
মুদির দোকান
শুকনা মরিচ গুড়া
১০ গ্রাম
১০-১২
মুদির দোকান
লবণ
১২৫ গ্রাম
৩-৪
মুদির দোকান
ভিনেগার
৫০০ মিলি
১০-১২
মুদির দোকান
সোডিয়াম বেনজয়েট
৪ গ্রাম
১২-১৫
ঔষধের দোকান
মোট=৫০১-৫৩৯ টাকা
কেচাপ তৈরির নিয়ম
১ম ধাপ
নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছ পাকা টমেটো কেটে বীচি ছাড়িয়ে সিদ্ধ করে চালুনী দিয়ে ছেঁকে রস সংগ্রহ করতে হবে।
২য় ধাপ
উপরের ছকের সব মসলাগুলো গুড়ো করে একটি পরিস্কার কাপড়ে বেঁধে নিতে হবে। এরপর চুলায় হাড়িতে টমেটোর রসে মসলার ব্যাগ ও তিন ভাগের ১ ভাগ (১কেজি ) চিনি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে।
৩য় ধাপ
জ্বাল দিয়ে টমেটোর রস তিনভাগের এক ভাগ হয়ে গেলে মসলার ব্যাগটি তুলে এর মধ্যে ভিনেগার, লবণ, ও বাকী চিনি মিশিয়ে আর কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।
৪র্থ ধাপ
ঠান্ডা হলে পরিস্কার বোতলে ভরে মুখ আটকে লেবেলিং করে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ
খরচ (৩ কেজি কেচাপ)
স্থায়ী যন্ত্রপাতির অবচয় (ক্ষতি) বাবদ খরচ
৩-৪ টাকা
কাঁচামাল বাবদ খরচ
৫০১-৫৩৯ টাকা
জ্বালানী বাবদ খরচ
৩০-৩৫ টাকা
   মোট=৫৩৪-৫৭৮ টাকা
আয় 
১ কেজি টমেটো দিয়ে কেচাপ হয়=৩০০ গ্রাম
১০ কেজি টমেটো দিয়ে কেচাপ হয়=৩ কেজি

১ কেজি কেচাপ বিক্রি হয়=২০০-২২০ টাকা
৩ কেজি কেচাপ বিক্রি হয়=৬০০-৬৬০ টাকা 
 লাভ 
৩ কেজি কেচাপ বিক্রিতে আয়
৬০০-৬৬০ টাকা
৩ কেজি কেচাপ তৈরিতে খরচ
৫৩৪-৫৭৮টাকা
লাভ=৬৬-৮২ টাকা
অর্থাৎ ৬৬-৮২ টাকা লাভ করা সম্ভব। তবে সময় ও স্থানভেদে এর  কম বা বেশি লাভ হতে পারে।

সংগৃহীত ও সংকলিত
তথ্য: 
তথ্য আপা 
Read More

Monday, November 9, 2015

অল্প টাকায় করুন আলুর চিপস তৈরি

12:01 PM 0
"সবজি ছাড়াও আলু দিয়ে নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। এর মধ্যে আলুর চিপস হল অন্যতম। ছোট বড়সবার কাছেই আলুর চিপস প্রিয় একটি খাদ্য। আলুর চিপস ছোটবড় সবার কাছেই খুব প্রিয় একটি খাবার। সব সময়ই এর চাহিদা থাকে। আলুর চিপস তৈরি করে বিক্রির জন্য বিভিন্ন খাবারের দোকান, কনফেকশনারিতে সরবরাহ করা যায়। এছাড়া আলুর চিপস তৈরি করে হাট বাজার, বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করে আয় করা সম্ভব। "
আমাদের দেশে প্রতিবছর অনেক আলুর চাষ হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আলু হচ্ছে প্রধান খাদ্য। আমাদের দেশেও আলু জনপ্রিয় সবজি। সবজি ছাড়াও আলু দিয়ে নানা ধরণের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। এর মধ্যে আলুর চিপস হল  অন্যতম। ছোট বড় সবার কাছেই আলুর চিপস প্রিয় একটি খাদ্য। যে কোন ব্যক্তি আলুর চিপস তৈরি ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
বাজার সম্ভাবনা
আলুর চিপস ছোট বড় সবার কাছেই খুব প্রিয় একটি খাবার। সব সময়ই এর চাহিদা থাকে। আলুর চিপস তৈরি করে বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন খাবারের দোকান, কনফেকশনারীতে সরবরাহ করা যায়। এছাড়া আলুর চিপস তৈরি করে হাট বাজার, বিভিন্ন মেলায় বিক্রয় করে আয় করা সম্ভব।
মূলধন
আলুর চিপস তৈরির জন্য স্থায়ী উপকরণ কিনতে আনুমানিক ৬১০ - ৬৭৫ টাকার প্রয়োজন হবে। আনুমানিক ৬৭৪-৭৪২ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ কেজি আলুর চিপস তৈরি করার কাঁচামাল কেনা যাবে। যদি ব্যক্তিগত পূঁজি না থাকে তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকট আত্মীয়স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক (সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, প্রশিকা) -এর সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য  ও প্রাপ্তিস্থান
স্থায়ী উপকরণ 
উপকরণ
পরিমাণ
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তিস্থান
চুলা
১টি
১০০-১২০
বানিয়ে নেয়া সমভব
বড় পাত্র
১টি
১৫০-১৬০
তৈজসপত্রের দোকান
চামচ
১টি
৩০-৩৫
তৈজসপত্রের দোকান
ছুরি
১টি
৪০-৪৫
তৈজসপত্রের দোকান
কড়াই
১টি
১৫০-১৬০
তৈজসপত্রের দোকান
চালনি
১টি
৩০-৩৫
তৈজসপত্রের দোকান
বটি
১টি
৬০-৬৫
তৈজসপত্রের দোকান
পলি প্রোপাইল প্যাকেট
১০০
৫০-৫৫
মুদি দোকান
মোট=৬১০-৬৭৫ টাকা
কাঁচামাল (১০ কেজি আলুর চিপস তৈরির জন্য)
উপকরণ
পরিমাণ
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তিস্থান
আলু (বড়)
২০কেজি
৪০০-৪৫০ টাকা
সবজি দোকান
সয়াবিন তেল
৩ কেজি
২৪০-২৫০ টাকা
মুদি দোকান
 লবণ
৫০০ গ্রাম
১০-১২ টাকা
মুদি দোকান
বিট লবণ
৫০০ গ্রাম
৮-১০ টাকা
মুদি দোকান
গোলমরিচ
১০০ গ্রাম
৮-১০ টাকা
মুদি দোকান
রঙ
পরিমাণ মত
৮-১০ টাকা
মুদি দোকান
মোট=৬৭৪-৭৪২ টাকা
আলুর চিপস তৈরি করার নিয়ম 
  • প্রথমে খোসাসহ আলু পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • ধারালো ছুরি বা বটির সাহায্যে আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে।
  • এরপর ধারলো ছুরি বা বটি দিয়ে আলুগুলো চাক চাক করে কেটে নিয়ে এক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তাহলে আলুর কষ বের হয়ে যাবে।
  • আলুর চাকগুলো চালুনীতে রেখে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর চুলায় রাখা গরম পানিতে  একটু লবণ ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে চাক চাক করে কাটা আলুগুলো আস্তে আস্তে ছেড়ে দিতে হবে।
  • আলুগুলো সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত পানিতে রাখতে হবে। সিদ্ধ হয়ে গেলে, আলুগুলো তুলে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর আলুগুলো পাটির উপর একটা একটা করে বিছিয়ে দিয়ে রোদে শুকাতে হবে।
  • আলুগুলো ভালোভাবে শুকালে তা তুলে ফেলতে হবে।
  • এরপর আলুগুলো চুলার উপর একটা কড়াইতে সয়াবিন তেলে ডুবিয়ে ভেজে নিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আলুগুলো বাদামী বা হলুদ রঙ ধারণ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত ভাজতে হবে।
  • ভাজা হয়ে গেলে কড়াই থেকে নামিয়ে একটা চালুনীতে রেখে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিতে হবে।
  • চিপসগুলো সামান্য গরম থাকতেই তার উপর কিছু লবণ ও মরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে প্যাকেট করতে হবে।
সাবধানতা
চিপস তৈরির সময় প্রয়োজনীয় উপকরণ ও রান্নার জায়গা অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
আয় ও লাভের হিসাব
মোট খরচ 
খরচের ক্ষেত্র
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
১০ কেজি আলুর চিপস তৈরি করতে কাঁচামাল বাবদ খরচ
৬৭৪-৭৪২ টাকা
স্থায়ী উপকরণের অবচয় (ক্ষতি) বাবদ খরচ
১০-১৫ টাকা
যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ
৫০-৬০ টাকা
মোট খরচ
৭৩৪-৮১৭ টাকা
আয় ও লাভ   
১ কেজি আলুর চিপস এর দাম ৯০-১০০ টাকা হলে
১০ কেজি আলুর চিপস এর বিক্রয় মূল্য 
৯০০-১০০০ টাকা 
১০ কেজি আলুর চিপস তৈরিতে খরচ
৭৩৪-৮১৭ টাকা
১০ কেজি আলুর চিপস বিক্রয় করে লাভ
১৬৬-১৮৩ টাকা
বিনিয়োগ ও বিক্রয়ের উপর ব্যবসার লাভ-ক্ষতি ও আয় নির্ভর করে। অনেক সময় জিনিসপত্রের দাম উঠা-নামা করে। তাই এই ক্ষেত্রে হিসাব শুধুমাত্র ধারণা দেওয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে।
স্থায়ী উপকরণগুলো একবার কিনলে অনেকদিন ধরে কাজ করা যাবে। ব্যবসার শুরুতেই এ খরচটি করতে পারলে পরবর্তীতে শুধু কাঁচামাল কিনে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সংগৃহীত ও সংকলিত
তথ্য: 
তথ্য আপা
Read More

অল্প টাকায় করুন কলার চিপস তৈরি

12:00 PM 0
চিপস এক ধরনের তেলে ভাজা মচমচে ও মজাদার খাবার। ছোটবড় সবার কাছে চিপস খুব প্রিয় একটি খাবার। নাস্তা হিসেবে বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য গ্রাম শহর নির্বিশেষে কলার চিপস ব্যবহৃত হয়। ঘরে বসেই যে কোনো নারী বা পুরুষ কলার চিপস তৈরি করে ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। অল্প পুঁজি দিয়ে এই ব্যবসা করা যায় বলে আগ্রহী নারী-পুরুষ যে কেউ কলার চিপস তৈরি ও বাজারজাত করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। ঘরে বসে কলার চিপস তৈরি করা যায়। তাই বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয় না এবং পরিবারের ছোটবড় সবাই এ কাজে সাহায্য করতে পারে।
যে সকল ব্যবসা অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে লাভবান হওয়া সম্ভব তার মধ্যে কলার চিপস অন্যতম। চিপস এক ধরণের তেলে ভাজা মচমচে ও মজাদার খাবার। ছোট-বড় সবার কাছে চিপস খুব প্রিয় একটি খাবার। নাস্তা হিসেবে বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য গ্রাম শহর নির্বিশেষে কলার চিপস ব্যবহত হয়। ঘরে বসেই যে কোন নারী বা পুরুষ কলার চিপস তৈরি ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
  • কলার চিপস্ তৈরি
  • বাজার সম্ভাবনা
  • মূলধন
  • প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান                                     
  • কলার চিপস তৈরির নিয়ম
  • আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ
বাজার সম্ভাবনা 
কলার চিপস সহজেই তৈরি করা যায়। অল্প পুঁজি দিয়ে এই ব্যবসা করা যায় বলে আগ্রহী নারী-পুরুষ যে কেউ কলার চিপস তৈরি ও বাজারজাত করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। ঘরে বসে কলার চিপস তৈরি করা যায়। তাই বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয় না এবং পরিবারের ছোট-বড় সবাই এ কাজে সাহায্য করতে পারে। কলার চিপস্ তৈরি করে বিভিন্ন উপায়ে বাজারজাত করা যায়। যেমন :
  • খাবারের দোকানে সরবরাহ করা যেতে পারে।
  • নিজেই কোন দোকান দিয়ে সেখানে বিক্রি করা যেতে পারে ।
  • অনেক সময় ক্রেতা বাড়ীতে এসেই কিনে নিয়ে যেতে পারে।
  • নিজের তৈরি খাবারের প্রচার চালানোর জন্য প্রথমে প্রতিবেশীদেরকে জানানো যেতে পারে, স্থানীয় দোকানীর সাথে যোগাযোগ করা যায়। আবার খাবারের বর্ণনা করে লিফলেট তৈরি করেও বিলি করা যেতে পারে।
মূলধন
আনুমানিক ১৯০০ - টাকা মূলধন নিয়ে কলার চিপস্  ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বড় আকারে কলার ২১০০ তৈরি চিপস্ রি ব্যবসা শুরু করতে নিজের কাছে যদি প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তবে ঋণদানকারী ব্যাংক(সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক , রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক), বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, প্রশিকা) থেকে শর্ত সাপেক্ষে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান
স্থায়ী উপকরণ 
উপকরণ
পরিমাণ
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তিস্থান
কড়াই 
১টি
১৫০-১৬০
তৈজসপত্রের দোকান
গামলা
১টি
৬০-৬৫
তৈজসপত্রের দোকান
ছুরি
১ টি
৪০-৪৫
তৈজসপত্রের দোকান
দাঁড়িপাল্লা
১ সেট
২৫০-২৬০
হার্ডওয়ারের দোকান
চালুনি
১টি
৪০-৪৫
তৈজসপত্রের দোকান
ট্রে
২টি
৩০০-৩১০
তৈজসপত্রের দোকান
খুমিত্ম (জালি)
১টি
৫০-৬০
তৈজসপত্রের দোকান
চুলা
১টি
১০০-১১০
বানিয়ে নেয়া যায়
চিকন কাঠি
১টি
১০-১৫
বানিয়ে নেয়া যায়
মোট=১০০০-১০৭০ টাকা
কাঁচামাল
উপকরণ
পরিমাণ
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
প্রাপ্তিস্থান
কাঁচা কলা
৬০ কেজি
৬০০-৬৫০
মুদি দোকান
সয়াবিন তেল
৬ কেজি
২৪০-২৫০
মুদি দোকান
লবণ
১ কেজি
১৬-১৮
মুদি দোকান
বিট লবণ
১ কেজি
২০-২৫
মুদি দোকান
গোল মরিচ
২০০ গ্রাম
৫০-৫৫
মুদি দোকান
মোট=৯২৬-৯৯৮ টাকা
কলার চিপস তৈরির নিয়ম
  • প্রথমেই পরিণত ও তাজা কলা সংগ্রহ করতে হবে।
  • কলার বোটা ও শেষ দিক থেকে সামান্য কেটে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। কলার খোসা উপর থেকে নীচের দিকে কেটে দু’দিক থেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে।
  • একটা বড় পরিস্কার গামলায় পরিমাণ মতো পানি নিতে হবে। যাতে কলাগুলো ডুবে থাকে। পানিতে পরিমাণ মতো লবণ গুলিয়ে নিতে হবে। কলাগুলো এর মধ্যে ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। এর ফলে কলার আঠা বের হয়ে যাবে।
  • কলাগুলো লবণ গোলানো পানি থেকে তুলে অন্য একটা বড় গামলায় রেখে পরিস্কার ধারালো বটি বা ছুরি দিয়ে চাক চাক করে কাটতে হবে।
  • কাটার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চাকগুলো পরিমাণ মতো পাতলা ও সমান হয়।
  • চুলার উপর কড়াই-এ পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল নিয়ে গরম করতে হবে। এমন পরিমাণ তেল নিতে হবে যেন কলার টুকরাগুলো ডুবে থাকে।
  • তেল গরম হলে কলার টুকরাগুলো তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে। গরম তেলে কলার টুকরাগুলো চিকন কাঠি দিয়ে জট ছাড়িয়ে নিতে হবে। তা না হলে একটা কলার টুকরার সাথে অন্যটা লেগে যাবে।
  • কলার টুকরাগুলো অল্প তাপে বাদামী রঙে ভেজে নিতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে টুকরাগুলো জালি  খুন্তির সাহায্যে তেল ঝরিয়ে তুলে একটা পরিস্কার ও শুকনো ট্রেতে রাখতে হবে। ট্রের উপর একটা পরিস্কার কাগজ রাখা ভাল। তাহলে কাগজ বাড়তি তেল শুষে নিবে।
  • অল্প গরম থাকতেই চিপস এর সাথে পরিমাণ মতো বিট লবণ ও গোল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে।
সাবধানতা 
  • খাদ্য তৈরির কাজ যারা করে তাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরী। কলার চিপস তৈরি করার শুরুতেই মাথা ঢেকে নিতে হবে। সাবান ও পরিস্কার পানি দিয়ে হাত ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  • দরকারী উপকরণগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও যত্ন করে রাখতে হবে।
আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ
খরচ  
স্থায়ী যন্ত্রপাতির অবচয় (ক্ষতি) বাবদ
৪-৫ টাকা
কাঁচামাল বাবদ
৯২৬-৯৯৮ টাকা
জ্বালানী ও যাতায়াত
২০০-২২০ টাকা
মোট=১১৩০-১২২৩ টাকা
আয় 
৬০ কেজি কলায় ২০ কেজি চিপস তৈরি সম্ভব   
১ কেজি চিপস বিক্রি হয়
৮০-৮৫ টাকা
২০ কেজি চিপস বিক্রি হয়
১৬০০-১৭০০ টাকা
লাভ 
২০ কেজি চিপসে আয়
১৬০০-১৭০০ টাকা
২০ কেজি চিপসে খরচ
১১৩০-১২২৩ টাকা
লাভ =৪৭০-৪৭৭ টাকা 
তবে সময় ও স্থানভেদে এর কম বা বেশি লাভ হতে পারে।  
স্থায়ী উপকরণগুলো একবার কিনলে অনেকদিন ধরে কাজ করা যাবে। ব্যবসার শুরুতেই এ খরচটি করতে পারলে পরবর্তীতে শুধু কাঁচামাল কিনে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সংগৃহীত ও সংকলিত
তথ্য: 
তথ্য আপা
Read More

অন্যান্য বিষয় খুজুন-

Post Top Ad